তিন স্তরের প্রত্যাশা ও নেতৃত্বের দর্শন
হোসাইন আহমেদ
মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য-“আমরা মাঠে আছি, মাঠেই থাকব। আপনারা ফিরে আসুন, আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আপনাদের ওপর কেউ আঘাত হানতে পারবে না; এটাই আমাদের অঙ্গীকার। দেশ ও এলাকার স্বার্থে আপনাদের নেতৃত্ব আজ অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনারা সঠিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ এবং প্রত্যেকের নিজ নিজ এলাকাকে শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এই বিশ্বাস ও দেশপ্রেমের চেতনা থেকেই আমরা রাজনীতি করি এবং ভবিষ্যতেও করে যেতে চাই। তাই আপনাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা; আপনারা ফিরে এসে জনগণের পাশে দাঁড়াবেন এবং নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।”
কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য-“আমাদের যা হওয়ার, তা হবে। মামলা, হামলা কিংবা মব; কোনো পরিস্থিতিকেই আমরা রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ হিসেবে দেখি না। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে দেশে ফিরতে চাই। এই প্রত্যাবর্তন কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে নয়; বরং আমাদের নিজ নিজ নির্বাচনী ও সাংগঠনিক এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা থেকেই দেশে ফিরতে চাই।”
শেখ হাসিনার বক্তব্য-
“যে পরিস্থিতিই হোক, আমি দেশে ফিরে যেতে চাই। আমার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়েই আমি বেশি চিন্তিত।পূণশ্চ :
এই তিনটি বক্তব্যকে পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে; মাঠপর্যায়ের কর্মীর প্রত্যাশা, সাংগঠনিক নেতৃত্বের দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় নেতৃত্বের দেশকেন্দ্রিক চিন্তা; এই তিনটির মধ্যে একটি সমন্বিত সম্পর্ক রয়ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে সাংগঠনিক দায়িত্ব, সাংগঠনিক দায়িত্বের ঊর্ধ্বে জনগণের স্বার্থ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্র ও জাতির ভবিষ্যৎ; এই ধারাবাহিকতাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল দর্শন হওয়া প্রয়োজএই তিন স্তরের দায়িত্ববোধ ও প্রত্যাশার সমন্বয় ঘটলেই ব্যক্তি, সংগঠন, সমাজ এবং সর্বোপরি দেশ ও জাতির কল্যাণে একটি কার্যকর রাজনৈতিক ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হব
লেখক : প্রকাশক, সাপ্তাহিক কুশিয়ারার কূল
মন্তব্য ০
আপনার মতামত জানান — সভ্য ভাষায় লিখুন